ইপিবির হালনাগাদ তথ্য

টানা চার মাস ধরে নিম্নমুখী রফতানি আয়, নভেম্বরে কমেছে ৫ দশমিক ৫৪%

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিনিয়োগে খরা ও বিভিন্ন খাতের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্লথ হয়ে পড়ে দেশের অর্থনীতি।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিনিয়োগে খরা ও বিভিন্ন খাতের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্লথ হয়ে পড়ে দেশের অর্থনীতি। এর পরও রফতানি আয় এবং রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ও রিজার্ভে স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। তবে চলতি অর্থবছরে রফতানি আয়ের সেই ধারা বিলীন হতে শুরু করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রফতানি আয়ে কিছুটা প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও পরের চার মাস ধরে তা ছিল নিম্নমুখী। সবশেষ নভেম্বরে দেশের রফতানি আয় হ্রাস পেয়েছে সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্যে গতকাল এ চিত্র দেখা গেছে।

ইপিবির তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নভেম্বরে দেশ থেকে ৩৮৯ কোটি ১৫ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই মাসে ছিল ৪১১ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। এ হিসাবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় নভেম্বরে রফতানি আয় কমেছে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এর আগে আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরেও রফতানি কমেছে। আগস্টে এ হার ছিল ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৪ দশমিক ৬১ ও নভেম্বরে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি বছরের একই মাসে রফতানি খাতে ২৪ দশমিক ৯০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এ মাসের বড় প্রবৃদ্ধির প্রভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস শেষে (জুলাই-নভেম্বর) এ খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা দেখা যাচ্ছে। তবে রফতানি খাতে অর্থবছরের শুরুতে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও পাঁচ মাস পর এসে তা কমে দশমিক ৬২ শতাংশে ঠেকেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের জুলাইজুড়েই চলেছে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলন। আগস্টে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও বেশ কয়েক মাস ধরেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যত ভঙ্গুর ছিল। স্বাভাবিকভাবেই সে সময় রফতানিতে কিছুটা ভাটা পড়েছিল। কিন্তু চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমও তুলনামূলক বেড়েছে। এর পরও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরে রফতানি আয় না বেড়ে উল্টো কমে যাওয়াটা উদ্বেগজনক।

এ প্রসঙ্গে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রফতানি খাতে আগামী দুই-তিন মাস নেতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। কারণ এখনো পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। সবচেয়ে বেশি সমস্যার কারণ ব্যাংক খাত, এছাড়া রয়েছে কাস্টমসের নানা সমস্যা।’

ব্যাংক খাতের সমস্যা দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে আমরা বলছি, ব্যবসায়ীদের অবস্থা ভালো নয়। এটা সরকার কোনোভাবেই আমলে নিচ্ছে না। অথচ আমাদের সঙ্গে সরকারের বসা দরকার। যদিও তারা বসার প্রয়োজন মনে করছেন না। কিন্তু বসে আলোচনা করলে অনেক কিছুর সমাধান বের হয়ে আসে।’

এদিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইপিবি জানিয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের রফতানি আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি হয়েছে। ধারাবাহিক এ মাসিক প্রবৃদ্ধি রফতানি খাতে স্থিতিশীল গতি ও পুনরুদ্ধারের বার্তা দিচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) মোট রফতানি হয়েছে ২ হাজার ২ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য। গত অর্থবছরের একই সময়ে এটা ছিল ১ হাজার ৯৯০ কোটি ৬০ লাখ ১০ হাজার ডলার। চলতি অর্থবছরের নভেম্বরের রফতানি ২০২৪ সালের একই মাসের তুলনায় ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমলেও মাসওয়ারি ধারাবাহিক উন্নতি খাতটির সহনশীলতা ও অভিযোজনক্ষমতা তুলে ধরছে।

ইপিবি দাবি করছে, বছরওয়ারি ওঠানামা থাকলেও ধারাবাহিক মাসওয়ারি প্রবৃদ্ধি ও প্রধান খাতগুলোর স্থিতিশীল পারফরম্যান্স প্রমাণ করে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের রফতানি শিল্প এখনো প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি আগামীতে ইতিবাচক গতি বজায় রাখার সম্ভাবনা প্রবল।

আরও